ভালবাসা ছাড়া আছে কি?

  ভভালবাসা ছাড়া আছে কি? আমি পছন্দ করি, অনেক ভালোবাসি। এত ভালোবাসি যে ভালোবাসার কোন শেষ নেই। অনেক তুমি আমাকে ভালোবাসো। এ ভালবাসা কি হবে,? গাঙ্গার জলে পুড়ে মরবে? না কোন অথৈ নদীতে যেখানে সেখানে শুধু পানি আর পানিও জল নেই? তুমি আমাকে বলে এ ভালবাসার কি হবে?  আমি মাগরেব নদীতে গিয়ে সেখানে কোন পানি নেই। তোমার জন্য এক কদম নয় তোমার কদম হেঁটেছি, পাশে তুমি নেই। মিডিয়া একবার বল তুমি এমন কেন?

কবি জীবনানন্দ দাশের আকাশলীনা কবিতা ও তার আলোচনা

 কবি জীবনানন্দ দাশের আকাশলীনা কবিতাটি নিম্নরূপ:

প্রেমের কবি, জীবনের কবি জীবনানন্দ দাশ


সুরঞ্জনা ঐখানে যেয়োনাকো তুমি, 

বোলোনাকো কথা ঐ যুবকের সাথে ;

ফিরে এসো সুরঞ্জনা:নক্ষত্রের রূপালি

আগুন ভরা রাতে;


ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;

ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;

দূর থেকে দূরে- আরও দূরে 

যুবকের সাথে তুমি যেয়োনাকো আর।






কী কথা তাহার সাথে?- তার সাথে! 

আকাশের আড়ালে আকাশে 

মৃত্তিকার মত তুমি আজ;

তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে।


সুরঞ্জনা, 

তোমার হৃদয় আজ ঘাস:

বাতাসের ওপারে বাতাস-

আকাশের ওপারে আকাশ। 


জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।তাঁর অসংখ্য কবিতা বাংলা সাহিত্যের অমিত ভান্ডার। জীবনানন্দ দাশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতাগুলোর অন্যতম 'আকাশলীনা'। এ কবিতায় কবি তাঁর প্রেমিকাকে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাঁর প্রেমে সাড়া দিতে বলেছেন। নিচে কবিতাটির প্রতিটি স্তবক আলোচনা করা হল। 

প্রথম স্তবক: কবিতার প্রথম লাইনটি বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই, কবি তাঁর প্রেমিকাকে বলছেন কোন এক যুবকের সাথে না যেতে। অর্থাৎ ঐ যুবকের সাথে গেলে তিনি কষ্ট পান।কবিতার দ্বিতীয় লাইনে তিনি বলছেন, বোলোনাকো কথা ঐ যুবকের সাথে। অর্থাৎ ঐ যুবকের সাথে কথা না বলতে এবং সেখানে যেতে তিনি তাকে না করছেন। তৃতীয় লাইনে তিনি বলছেন,  ফিরে এসো সুরঞ্জনা নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাতে। অর্থাৎ এখানে তিনি তার প্রেমিকাকে তাঁর কাছে আসতে বলছেন এবং আনন্দের সাথে আসতে বলছেন। নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাত শব্দটি বিশ্লেষণ করলে এমনই পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় স্তবক: কবিতার দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর প্রেমের পক্ষে আকুতি জানিয়েছেন, বলেছেন, ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে, হৃদয়ে আমার।অর্থাৎ তিনি তাঁর প্রেমিকাকে বলছেন এইটা অর্থাৎ তাঁর হৃদয় হল তার প্রেমের সঠিক স্থান এবং সেখানে ফিরে আসতে বলছেন। 


কবিতার তৃতীয়   স্তবক: আকাশলীনা কবিতার  তৃতীয়  স্তবকে কবি তাঁর প্রেমিকাকে যুবকের সাথে কথা বলতে এক ধরনের  বারণ করছেন। তিনি বলছেন, 'কী কথা তাহার সাথে! ' অর্থাৎ যুবকের সাথে কথা বললে তিনি বিরক্ত হন।আকাশের আড়ালে আকাশে বলতে কবি গোপনে অর্থাৎ কবিকে ফাঁকি দিয়ে বোঝাচ্ছেন।কবি বলছেন, 'মৃত্তিকার মত তুমি আজ '। অর্থাৎ কবি তাঁর প্রেমিকাকে মাটির সাথে তুলনা করছেন। মাটির সাথে তুলনা করছেন এই অর্থে মাটির রং, রূপ, গন্ধ কিছুই নেই। অর্থাৎ কবির প্রেমিকা যদি ঐ নির্দেশিত যুবকের সাথে কথা বলে তাহলে সে রং, রূপ, গন্ধহীন মাটিতে পরিনত হবে। তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে -এখানে তিনি যুবকের প্রেমকে ঘাসের সাথে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ ঐ যুবকের প্রেম কবির প্রেমিকার জন্য অর্থবহ কিছু ঘটাবেনা।

কবিতার চতুর্থ  স্তবক: আকাশলীনা কবিতার চতুর্থ  স্তবকে কবি তাঁর প্রেমিকাকে এক ধরনের তিরস্কার করছেন। কবি বলছেন, সুরঞ্জনা তোমার হৃদয় আজ ঘাস। অর্থাৎ তিনি তাঁর প্রেমিকাকে ঘাসের সাথে তুলনা করছেন।এরপর তিনি বলছেন, বাতাসের ওপারে বাতাস আকাশের ওপারে আকাশ।এখানে তিনি এক ধরনের হতাশা ব্যক্ত করছেন।অর্থাৎ তাঁর প্রেমিকার আচরণে তিনি দুঃখ পেয়েছেন এবং এটাকে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন।

কবিতার নামকরণ: 'আকাশলীনা' শব্দেটি দ্বারা এক ধরনের কাল্পনিক বস্তু বোঝায় যা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এখানে তিনি আকাশলীনা বলতে তাঁর প্রেমিকাকে বুঝিয়েছেন এবং তিনি তাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরের বস্তু মনে করছেন এবং তাকে মনের মত করে পাননি সে কথা বুঝাচ্ছেন।


যাইহোক 'আকাশলীনা ' বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ একটি কবিতা। এ কবিতায় কবি তাঁর মনের আকুতি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। কবির এ কবিতা পড়লে এক ধরনের নষ্টালজিয়ায় হারিয়ে যেতে হয়।


 


Comments

  1. আপনার মন্তব্য আমার অনুপ্রেরণা

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

গুরু মহাশয়

আল্লাহ তুমি আছ

ভালবাসি তোমায়